টেস্টেও ভালো দল হয়ে উঠছে বাংলাদেশ?
চট্টগ্রামে একটুর জন্য ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে না পারা। পরের টেস্টটা তিন দিনেই জিতে নেওয়া। এরপর টানা তিন টেস্টে হার। তবুও ওয়েলিংটন, ক্রাইস্টচার্চের পর হায়দরাবাদ—তিনটা ম্যাচই রেখে গেল কিছু না কিছু আক্ষেপ। বাংলাদেশ টেস্ট দল এখন আক্ষেপ করার সুযোগ অন্তত পাচ্ছে। আগে তো নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হতো।
এ দিক দিয়ে দেখলে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটেও উন্নতির ছাপ আছে। দলের খুঁতগুলোর যা কিছু আছে, এর বেশির ভাগই টেস্ট খেলার মানসিকতা গড়ে না ওঠা। বছরে দুটি করে টেস্ট খেললে তা যে হবেও না, এই প্রসঙ্গও উঠে আসছে বিদেশি ধারাভাষ্যদের কণ্ঠে।
মুশফিকুর রহিমও মনে করেন, টেস্টে বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা স্পষ্ট। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন শক্তিশালী হয়ে উঠলেও টেস্টে কেন ব্যবধানটা বেশি, সেই ব্যাখ্যা করে মুশফিক আজ ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট অনেক কঠিন খেলা। পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিক খেলতে হয়। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে একদিন সবকিছু ঠিক করলেই যে কোনো দলকে হারানো যায়। টেস্টে ব্যাপারটি ভিন্ন। প্রথম ইনিংসে ভালো খেললে পরের ইনিংসে প্রতিপক্ষ অন্য পরিকল্পনা নিয়ে আসে। সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আমাদের তাই অনেক উন্নতি করতে হবে।’
আক্ষেপ আছে তাঁর কণ্ঠেও। তবে মুশফিক বলছেন, ‘আগে যেটা হতো আমরা মাঝেমধ্যে এক-দুটি টেস্ট ভালো খেলতাম। এখন নিয়মিত ভালো খেলছি। আরও এগিয়ে যেতে হলে যেটি প্রয়োজন, ধারাবাহিক ভাবে পাঁচ দিন ভালো খেলা। নিউজিল্যান্ডে আমরা দুই টেস্টেই তিন দিন সমান তালে লড়েছি। এখানে সাড়ে তিন দিন। এটাই পাঁচ দিনে নিয়ে যেতে হবে। আশা করি আরও কিছু টেস্ট খেললে আমরা এই জায়গায়টায় উন্নতি করতে পারব।’
উন্নতি হচ্ছে কি না এই প্রশ্নে মুশফিকের সরাসরি উত্তর, ‘উন্নতি তো অবশ্যই হচ্ছে। আমি যেটা বললাম চার পাঁচ বছর আগে যদি দেখেন, আমরা এক টেস্টে ভালো খেলতাম তো এর আট নয় মাস পরে গিয়ে আরেকটা টেস্টে ভালো খেলতাম। সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি আমরা। আমরা কিন্তু অনেক দিন পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আমরা পাঁচ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছি। দ্বিতীয় টেস্টটি তো জিতেই গেছি। নিউজিল্যান্ডে দুটি টেস্টেই তিন দিন পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিলাম। এখানে আমরা সাড়ে তিন দিন ভালো লড়াই করেছি। এদিক দিয়ে দেখলে, একটা পর্যায় পর্যন্ত কিন্তু আমাদের খেলায় ধারাবাহিকতা আছে।’
এর থেকে আরও ভালো করতে হলে কী করতে হবে, তাও বলে দিলেন টেস্ট অধিনায়ক, ‘বোলিং ইউনিটে আমাদের উন্নতি করা দরকার। ফিল্ডিংয়েও। আমাদের এই দুই জায়গাটায় উন্নতি দরকার। আমাদের যে সাতজন ব্যাটসম্যান খেলছে, যেকোনো কন্ডিশনে কিছু হলেও রান করছে। দুটি ইনিংসের মধ্যে একটি ইনিংসে হলেও ভালো খেলছে। আমাদের বোলিং ইউনিট আরও সাহায্য করলে ফিল্ডিংও যদি বোলারদের ভালো সমর্থন দিতে পারে দুই-এক বছরের মধ্যে আমরা আরও ভালো টেস্ট দল হতে পারব।’

কোন মন্তব্য নেই